নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৮ সালে প্রায় দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন মিচেল স্টার্ক। তবে চোটের কারণে সেবার আইপিএল চুক্তি হাতছাড়া হয় অস্ট্রেলিয়ান এই পেসারের। এরপর বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিজের সেই ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি আদায় করতে পারেননি স্টার্ক।
মিচেল স্টার্কের ক্ষেত্রে যেমন চোটজনিত সমস্যা ছিল, তেমনই সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে তার ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির চুক্তি থাকলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এরপর বাংলাদেশ সরকারও কড়া অবস্থান নেয়।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিসিবি জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, মোস্তাফিজ কি তার চুক্তিভিত্তিক পুরো অর্থ, অর্থাৎ ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন?
বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে মোস্তাফিজকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে তারা ইতোমধ্যে মোস্তাফিজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তার কথাও ভাবা হচ্ছে।
মিঠুন বলেন, ‘অনেকে জানেন না, আমরা মোস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলেছি। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মোস্তাফিজকে নিয়ে কী করা যায়, কোন পথে এগোনো যায়, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা তাকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার বিষয়েও প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানান, মোস্তাফিজের চুক্তি বাতিলের বিষয়টি ক্রিকেটীয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফল।
তাই এটি সাধারণ বীমা কাঠামোর মধ্যেও পড়ে না।
মিঠুন বলেন, ‘বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর। পুরো টাকাটা হয়তো পাওয়া সম্ভব হবে না। তবে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের যে সুযোগ আছে, সেটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। বিসিসিআই বা সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যোগাযোগের পথও খোলা রাখা হচ্ছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। মোস্তাফিজ যদি চান, আমরা তার পাশে থাকব। প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে। এখনো আমরা লিগ্যাল নোটিস দেইনি, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটাও বিবেচনায় আছে।’






