আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সোমবার মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের রামাল্লা এবং হেবরন গভর্নরেটে দুটি বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়াও একটি আবাসিক ভবনও বিধ্বস্ত করেছে দখলদাররা। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, তারা অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করছিল সেই বাড়িগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেবরনের উত্তরে বেইট উমমার শহরে অনুমতি ছাড়াই ভবনগুলো ধ্বংস করতে শুরু করে সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার থেকেই পশ্চিম তীরের একাধিক গভর্নরেট (শাসন এলাকা) জুড়ে একের পর এক হিংসাত্মক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বিচ্ছিন্ন সেসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। এছাড়াও ফিলিস্তিনিদের যানবাহন, জলপাই গাছসহ বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। সালফিতের দক্ষিণ-পশ্চিমে ফারখা গ্রামে এবং বিদ্দ্যা শহরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি দখলদাররা। ফারখার স্প্রিং এলাকায় একদল সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের আক্রমণ করে এবং কয়েক ঘণ্টা তাদের আটকে রাখে। এছাড়াও বিদ্দিয়ার উত্তরে খিলিত হাসান এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
আল-ধাহিরিয়ায় এলাকায় ফিলিস্তিনি জমিতে ইসরাইলি পতাকা স্থাপন করে সেনারা। এমনকি একটি নতুন ফাঁড়ি স্থাপনের ইঙ্গিত দেয় তারা। পশ্চিম তীরের এলাকা সি-তে জমি দখল ও রাস্তা নির্মাণের ঘটনাও ঘটছে। এছাড়াও এলাকায়, বসতি স্থাপনকারীরা শত শত জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছে। পাশাপাশি শহরের উত্তর-পশ্চিমে উম্মে সাফা গ্রামের প্রায় ২,০০০ ডুনাম (৫০০ একর) জমি বুলডোজ করেছে তারা। আবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের (গভর্নরেট) খিরবেত আর-রাকিজে ফিলিস্তিনি ভূমিতে হামলা চালিয়েছে দখলদাররা। পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ পাড়ায় একটি বাসে পাথর দিয়ে আক্রমণ করেছিল তারা। এতে বাসের জানালা ভেঙে যায়।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার রাতে পশ্চিম তীরের উত্তর জর্ডান উপত্যকায় বসতি স্থাপনকারীরা গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত দুটি জলের ট্যাংক চুরি করে। জাতিসংঘ বলেছে, ২১ জানুয়ারি পশ্চিম তীরে ইসরাইল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে সহিংসতা প্রায় ৪০,০০০ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করেছে। এ বিষয়ে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের প্রধান মুয়াইয়াদ শাবান বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করাই অধিগ্রহণকারীদের মূল উদ্দেশ্য।’






