নিজস্ব প্রতিবেদক : এরশাদুল বারী, কোপেনহেগেন থেকে :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিশ্বের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর এবার যৌথ বিবৃতি দিয়ে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ন্যাটো সামরিক জোটভুক্ত ৬ দেশ। মঙ্গলবার ডেনমার্ক ছাড়াও ন্যাটোভুক্ত আরও ৬ দেশ ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন সরকার প্রধানদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল তাদেরই রয়েছে।”
বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এবং স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বাক্ষর করেন।
এর আগে সোমবার ড্যানিশ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে আরেকটি ন্যাটো দেশে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ন্যাটোসহ সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে সেটিরও সমাপ্তি হবে।”
একই দিন (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের গ্রিনল্যান্ড লাগবে। ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। এরপর লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে হামলাসহ গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। ট্রাম্প গত রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।” ভেনেজুয়েলায় এমন নজিরবিহীন হামলা ও ট্রাম্পের হুমকির ডেনমার্কের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
৭ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের দেয়া যৌথ ওই বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা বলেন, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা সর্বজনীন নীতি এবং আমরা তাদের রক্ষা করব। আর্কটিক নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসাবে রয়ে গেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক এবং ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ডসহ ডেনমার্ক ন্যাটোর অংশ উল্লেখ করে এতে আরও বলা হয়, আমরা এবং আরও অনেক মিত্র আর্কটিককে নিরাপদ রাখতে এবং প্রতিপক্ষদের প্রতিহত করার জন্য আমাদের উপস্থিতি, কার্যকলাপ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছি। তাই আর্কটিকের নিরাপত্তা সম্মিলিতভাবে অর্জন করতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ন্যাটো মিত্রদের সাথে একত্রে, জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলি সমুন্নত রেখে, যার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা,” নেতারা বলেন।
উল্লেখ্য, ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্য ও খনিজ সম্পদের ভান্ডার খ্যাত বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপ গ্রীনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার। অথচ বিশাল আয়তনের এই দ্বীপটির জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত একটি বিশাল ভূখণ্ড যেখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। ফলে গ্রিনল্যান্ডের সরকার ব্যবস্থায় ডেনমার্ক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক বিষয়গুলো ডেনমার্কই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।






