নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ তবে তাঁর সেই পরিকল্পনা খোলাসা না করলেও তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান (পরিকল্পনা) বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তাঁর লাগবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণসংবর্ধনা মঞ্চে তিনি এ কথা বলেন। প্রায় ১৬ মিনিট বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বাসে করে রওনা হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে স্থাপিত সংবর্ধনা মঞ্চে আসেন তিনি। বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বিমানবন্দরে সব আনুষ্ঠানিকতা ও দলের নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত তারেক রহমান পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে তাঁকে সংবর্ধনা দিতে নির্মিত মঞ্চের উদ্দেশে বাসে করে রওনা করেন দুপুর সাড়ে ১২টার খানিক পরে। বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরত্বে নির্মিত ওই মঞ্চে তিনি এসে পৌঁছান বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে।
সেখানে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই। মার্টিন লুথার কিং—নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তাঁর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসাবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’
সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাইবোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন ইনশা আল্লাহ আমরা “আই হ্যাভ আ প্ল্যান” বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’
মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষ হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে—যেকোনো মূল্যে আমাদের এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক—যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণি, যেকোনো পেশা, যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে এই হোক আমাদের চাওয়া।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে ইনশা আল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
বক্তব্য শেষ করার পর যখন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি) অনুষ্ঠান শেষ করার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন আবারও মাইকের সামনে এসে তারেক রহমান বলেন, ‘মনে রাখবেন, উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি। ইনশা আল্লাহ, আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন করব।’





