জেলা প্রতিনিধি:
ঘানির চারপাশে ঘুরছে গরু। সেই সঙ্গে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ। ফোটায় ফোটায় পড়ছে তেল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সরিষার তেল তৈরির এই দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না। হাতেগোণা কয়েকজন এই পেশা ধরে রেখেছেন এখনো। তবে তাতে এসেছে ভিন্নতা। গরু বা ঘোড়ার বদলে ঘানি ঘোরানো হচ্ছে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দিয়ে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায়।
উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের ছোট সুলতানপুর গ্রামে তিনজন ও ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের কনুয়া গ্রামে একজন কাঠের ঘানিতে সরিষা দিয়ে তেল উৎপাদন করছেন।
দুই পরিবারের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দিয়ে ঘুরছে ঘানি। বিশেষ কায়দায় স্থাপন করা এই ঘানি দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষ ভিড় করছেন। অনেকে এটা দেখে নতুন করে উৎসাহিত হয়ে ঘানি তৈরি করছেন।
ঘানি দিয়ে সরিষার তেল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কলুরা জানান, গরু দিয়ে ঘানি চালালে সঙ্গে একজন মানুষকে সারাক্ষণ সময় দিতে হয়। সময় লাগে বেশি। এছাড়া তেল উৎপাদনের সময় গরুর চোখ ঢেকে রাখার জন্য পরিবারের লোকজন এটা পছন্দ করে না। তাই পরিবর্তন এনেছেন। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।
নাফানগর ইউনিয়নের ছোট সুলতানপুর গ্রামের বিষ্ণু পদ রায় বলেন, আমি ৩০ বছর থেকে ঘানিতে সরিষা ভেঙে তেল উৎপাদন করছি। এর আগে আমার বাবা, তার আগে দাদা ঘানিতে তেল উৎপাদন করতেন। আগে আমি গরু দিয়ে তেল উৎপাদন করতাম। বর্তমানে মোটরসাইকেল দিয়ে তেল উৎপাদন করছি। গরু দিয়ে করলে সময় বেশি লাগে। এছাড়া একজন মানুষ সব সময় লেগে থাকতে হয়। আর গরুরও কষ্ট হয়। এ কারণে মোটরসাইকেল দিয়ে ঘানিতে তেল উৎপাদন করছি।






