ভিওইবি ডেস্ক : ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস কর্তৃক অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) স্থাপনের ঘোষণা এবং দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) কর্তৃক দিল্লির সকল স্কুলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণের নির্দেশের মাধ্যমে এই নিপীড়ন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পদক্ষেপগুলি ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশীরাও অন্তর্ভুক্ত। তাদের সাধারণ জেলে রাখা সম্ভব নয় বিধায়, তাদের জন্য বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি) এই উদ্দেশ্যে জমি প্রদান করলেও, সেই জমি ডিটেনশন ক্যাম্পের নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত না হওয়ায়, বিএমসি’র কাছে বিকল্প জমির আবেদন করা হয়েছে। ফড়নবিস সরকার কর্তৃক বাংলাদেশীদের দ্বারা সৃষ্ট সকল প্রকার অবৈধ দখল উচ্ছেদের ঘোষণাও এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) দিল্লির সকল স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের পরিচয় বিশেষভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দিল্লি সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির (স্বরাষ্ট্র) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকটিতে তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা” বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের জন্ম সনদ না দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমসিডি-ও এই বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশী শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই দুইটি ঘটনাই ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও নিপীড়নের জ্বলন্ত প্রমাণ। কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকারও এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপগুলির ফলে ভারতে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশীদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






