এরশাদুল বারী: আপনি যদি প্রবাসী হোন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হন, আপনার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র থাকে তাহলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা একান্তই আপনার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।এই দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী ভোটারদের জন্য জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করেছে বর্তমান সরকার। সেজন্য প্রত্যেক প্রবাসী ভোটারের জন্য সরকার মাথাপিছু প্রায় ৭০০ টাকা ব্যয় করে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপস এর মাধ্যমে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার ভোট টা দেশের জন্য খুবই মূল্যবান আমানত।
অর্থাৎ আপনি যদি দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে জাতীয় নির্বাচনে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান তাহলে এই পোস্টাল ভোটার বিডি অ্যাপসটি আপনার মোবাইলে ইনস্টল করে যাবতীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর সরাসরি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আপনার ভোট প্রদান করতে পারবেন। আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে পোস্টাল বিডি অ্যাপস এর মাধ্যমে প্রবাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবো তার আদ্যাপান্ত। তবে তার আগে কয়েকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেগুলো আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এবং সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রথমত: অবশ্যই আপনার বাংলাদেশের এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। তাছাড়া আপনি পাসপোর্ট বা অন্যকিছু দিয়ে কোনভাবেই ভোট দিতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত: ব্যালট পেপারে থাকা (নিচে বিস্তারিত আছে) কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে।
তৃতীয়ত: পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপস এর মাধ্যমে একজন ভোটার তার নির্দিষ্ট একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে একটি মাত্র ভোট প্রদান করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে কোনোভাবেই একজন ভোটার একাধিক মোবাইল নাম্বার দিয়ে একাধিক নিবন্ধন করার চেষ্টা করলে সবগুলো নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে এবং আপনি ভোট প্রদান করতে পারবেন না। পাশাপাশি আপনারা অ্যাপসটা লক হয়ে যাবে।
৪: আপনার ফোনের লোকেশন শেয়ার অপশনটি অবশ্যই অন রাখতে হবে।
৫: আপনাকে মাথায় রাখতে হবে আপনি যদি একবার এই অ্যাপসে ভোটার নিবন্ধন করেন তাহলে কোনভাবেই সেই দেশের বাইরে গিয়ে অর্থাৎ বাংলাদেশে গিয়ে ফিজিক্যালি ভোট দিতে পারবেন না।
অর্থাৎ আপনি যদি মনে করেন নির্বাচনের সময় সরাসরি দেশে গিয়ে ফিজিক্যালি ভোট দিবেন তাহলে কোনভাবেই আপনাকে পোস্টাল বিডি অ্যাপসে নিবন্ধন করার দরকার নেই।
৬: নির্বাচনের দিনের আগেই আপনার ব্যালট পেপার দেশে পৌছাতে হবে।
৮. আপনার ঠিকানায় পাঠানো ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার পর থেকেই ভোট প্রদানের সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দ ও প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত হওয়ার পরেই ভোট দিতে হবে। তা না হলে আপনি যাকে ভোট দিয়েছেন সে প্রার্থীতা প্রতাহার করে নিলে আপনার ভোটের কোন মূল্য থাকবে না।
৯. বিভিন্ন দেশে নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোস্টাল ভোটার বিডি অ্যাপস এ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। যেমন ডেনমার্কে অবন্থান করা প্রবাসীরা ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন।
যেভাবে নিবন্ধন করবেন:
এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই আপনি যে দেশে বর্তমানে অবস্থান করছেন প্রথমে আপনাকে আপনার যে কোন স্মার্ট ফোন থেকে প্লে স্টোর অথবা অ্যাপল স্টোর থেকে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপসটি মোবাইলে ইন্সটল করতে হবে।
এরপর আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার দিয়ে ওটিপি সেট করে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপস এ লগইন করতে হবে।
এরপর আপনার লাইভ সেলফি বা ছবি তুলতে হবে এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি তুলতে হবে।
পরবর্তী ধাপে আপনার নিবন্ধিত ঠিকানা দিতে হবে যেই ঠিকানায় আপনার ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস পাঠানো হবে।
প্রথম ধাপের এই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর আপনাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখের অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে আপনার সেই নির্ধারিত ঠিকানায় ব্যালট পেপারসহ তিনটি প্রয়োজনীয় পেপার ডাকযোগে পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আপনার কাছে পাঠানো চিঠির বক্সে তিনটি প্রয়োজনীয় কাগজ থাকবে তার মধ্যে একটি হচ্ছে আপনার ব্যালট পেপার যেটাতে আপনি ভোট প্রদান করবেন, একটি নির্দেশিকা যেখানে আপনি কিভাবে ভোট প্রদান করবেন তার বিস্তারিত নির্দেশনা থাকবে এবং আরেকটি হচ্ছে ফিরতি খাম যেখানে ভোট প্রদান শেষে ব্যালট পেপার সেই খামে ভরে আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে দিবেন।এক্ষেত্রে আপনি সম্পুর্ন বিনা খরচে এটি করতে পারবেন।
যখন আপনি ব্যালট পেপারটি হাতে পাবেন তখন দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে সেই পোস্টার বিডি অ্যাপস টা লগইন করতে হবে। এরপর আপনার কাছে পাঠানো সেই খামের ভেতরে থাকা কিউআর কোডটি মোবাইলে স্ক্যান করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার মোবাইলে সেটিংসে লোকেশন টা অন থাকতে হবে। এরপরে আপনি কিভাবে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সেই নির্দেশিকা গুলো ভালো করে পড়ে নিতে হবে। এরপর ছবি-প্রতীকসহ আপনার পছন্দের প্রার্থীর তালিকা থাকবে সেখানে ক্রস অথবা টিক চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান সম্পন্ন করবেন। এরপর খামের মধ্যে একটি অঙ্গিকারনামা থাকবে সেখানে আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে।
একদম শেষ ধাপে এসে ভোট প্রদান শেষে আপনার ব্যালট পেপার এবং সেই স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা হলুদ রঙের খামে ভরে সেটা আপনার নিকটস্থ পোস্টাল অফিসের মাধ্যমে পাঠাতে হবে যেটা বাংলাদেশ কমিশনে পৌঁছাবে। তবে এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে দেরি করে পাঠালে কোনভাবে যদি নির্বাচনের দিনের আগে না পৌছায় অর্থাৎ ভোটের দিনের পরে পৌছায় তাহলে আপনার ভোটটি গণনায় আসবে না।






