স্পোর্টস ডেস্ক:
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হার ছাপিয়ে এখন টাইগার সমর্থকদের মনে দুটি প্রশ্নই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। এক. ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানকে শেষ ম্যাচে হারাতে পারবে শান্তর দল? দুই. মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কি হবে? দেশের ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখা এ দুই লড়াকু যোদ্ধা কি বয়সের কাছে হার মেনে নিজ থেকে সরে দাঁড়াবেন, নাকি আরও কিছুদিন খেলে যাবেন?
এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের চার সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন ও মোহাম্মদ আশরাফুল।
মুশফিক আর রিয়াদের ইস্যুতে চারজনই একমত। কেউ তাদের নিয়ে একটি নেতিবাচক শব্দও উচ্চারণ করেননি। কোনোরকম নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার না করে সবাই একবাক্যে রিয়াদ ও মুশফিকের অবদানের কথা স্বীকার করেন। বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লিখে রাখার মতো নাম রিয়াদ ও মুশফিক। দেশের ক্রিকেট উত্তরণে তাদের অবদান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারা বিভিন্ন সময় অনেক ম্যাচ, সিরিজ জেতানো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্তরণের অন্যতম সারথি রিয়াদ-মুশফিক।
বলার অপেক্ষা রাখে না, রিয়াদ ও মুশফিক দুজনই সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের সেরা ও সফল ব্যাটারদের অন্যতম। সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের সাথে ৪ রানে আউট হয়েছেন বলেই রিয়াদ শেষ হয়ে গেছেন, তা ভাবার কোনোই অবকাশ নেই। তার আগের চার ইনিংসের সব কটায় ফিফটি আছে তার।
সে তুলনায় মুশফিক অনেকটাই অনুজ্জ্বল। ব্যাট চালনা এবং পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে মিস্টার ডিপেন্ডেবলের তকমাধারীর ক্যারিয়ারে সূর্য কিছুটা পশ্চিমে হেলে পড়েছে। কিউই অফস্পিনার মিচেল ব্রেসওয়েলের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়ার আগের ২ ম্যাচেও মুশফিকের ব্যাট কথা বলেনি। ওই খেলাগুলোয় মুশফিকের সংগ্রহ ছিল মোটে শূন্য আর এক। মানে শেষ তিন ম্যাচে তার রান ০, ১ ও ২।
কিন্তু তারপরও নান্নু, সুজন, সুমন আর আশরাফুলের কেউ বলছেন না মুশফিকের এখনই অবসর নেয়া উচিত। তাদের চারজনের একই কথা, ‘অবসরের সিদ্ধান্ত একান্তই ক্রিকেটারদের। কে কবে কখন অবসর নেবে, সেটা একান্তই তার নিজের ব্যাপার। এখানে বাইরে থেকে কারও মন্তব্য একদমই ঠিক নয়। মুশফিক আর রিয়াদ দীর্ঘদিন অনেক সার্ভিস দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুজন সফল যোদ্ধা। অনেক সাফল্য উপহার দিয়েছে। মুশফিক আর রিয়াদই সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টও তাদের সাথে বসে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।
সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কথা, এটা কেউ এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। সিনিয়র প্লেয়ারদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। খেলোয়াড়রা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে কখন অবসরে যাবে। তবে এর বাইরে বোর্ড ও সিলেকশন প্যানেলেরও চিন্তা করতে হবে।
হাবিবুল বাশার সুমনের ব্যাখ্যা, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে রিয়াদ আর মুশফিক শুধু অভিজ্ঞতার কারণেই দলে আছে। দুজনই ভালো খেলে পারফর্ম করে দলে টিকে আছে। তাদের ফিউচার তারাই ডিসাইড করবে।
সুমন যোগ করেন, এখনো বাংলাদেশের আরও একটি ম্যাচ বাকি। এখনই মুশফিক আর রিয়াদের অবসর নিয়ে হইচই না করে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। তা না করলে পাকিস্তানের সাথে শেষ ম্যাচ থেকে মনোযোগ-মনোসংযোগ সরে যেতে পারে। যেটা ভালোর চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি।
খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘হুট করে অবসরের কথা বলার আমি কে? তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের ফিটনেস কেমন! নিজের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস কতটা! তা রিয়াদ আর মুশফিকই ভালো বলতে পারবে। এত বছর ধরে লাল সবুজে খেলেছে, এ সিদ্ধান্তটা আসলে ওদেরই নিতে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি যে, কি করবে, না করবে।
আমি জানি রিয়াদ আর মুশফিক দুজনই খুব ভালো টিম প্লেয়ার। দলের মঙ্গলটা তাদের কাছে সব সময়ই বড়। তারাই বেটার থিংকার কি করলে দলের ও তাদের জন্য ভালো হবে। ওরাই ভালো বুঝবে কোনটা ভালো, এখনই ছেড়ে দেওয়া নাকি আরও এক বছর খেলা।
মোহাম্মদ আশরাফুলও মনে করেন সিদ্ধান্তটা একান্তই রিয়াদ ও মুশফিকের। আশরাফুলের কথা, ‘বয়স বেড়ে গেলে সবার আগে দেখা হয় ফিটনেস কেমন আছে! কিন্তু আমার মনে হয় এদিক থেকে রিয়াদ ও মুশফিক দুজনই বেশ ভালো অবস্থায় আছে। দুজনেরই ফিটনেস লেভেল অসাধারণ। তারা এখনো বেশ ফিট। তারা নিজেরাই বলতে পারবে কতদিন খেলবে। আমি আপনি বলতে পারি না।
তবে অনুজপ্রতিম মুশফিকের জন্য একটি পরামর্শ আছে আশরাফুলের। তিনি মনে করেন, মুশফিক যদি ওয়ানডে ছেড়ে শুধু টেস্ট খেলে, তাহলে অন্তত আরও দুই বছর অনায়াসে টেস্ট খেলতে পারবে।
মুশফিক সম্পর্কে আশরাফুলের ব্যাখ্যা, ‘সে কয়েকটা ভালো বলে আউট হয়েছে। একটা ব্যাটার শুরুতে আউট হলে কিছু বলার থাকে না। ভারতের সাথে মুশফিক যে বলে আউট হয়েছে, তাতে তার কিছু করার নেই। আমার মনে হয় মুশফিক মেন্টাল প্রেসারে আছে হয়তো। স্লগ সুইপ তার ন্যাচারাল শটস। এভাবে সে আউটও হয়েছে। রানও করেছে।’
মুশফিককে পরামর্শ দিয়ে আশরাফুল শেষ করেন এভাবে, আমার মনে হয়েছে, ‘মুশফিক যদি ওয়ানডে ছেড়ে শুধু টেস্ট খেলতে চায় তাহলে সে আরও দুই বছর অনায়াসে টেস্ট খেলতে পারবে।’






