এরশাদুল বারী, কোপেনহেগেন থেকে : ডেনমার্ক সরকারের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া এসইউ বা শিক্ষা ভাতা বাতিলের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে দেশটির উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী কোপেনহেগেনের সিটি হল স্কয়ারে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
ডেনিশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন Danske Gymnasieelevers Sammenslutning সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এতে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রান্স, ইটালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতে ডেনমার্কেও সরকার বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হতে যাচ্ছে।
মূলত ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান করার জন্য সরকার এসব নতুন প্রস্তাব করেছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে এবং যাদের বাবা-মায়ের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ৭১০,০৭৭ ডেনিশ ক্রোনার বেশি, তারা আর এসইউ বা শিক্ষা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ৪১৯,৫৮৯ থেকে ৭১০,০৭৭ ডেনিশ ক্রোনার মধ্যে, তাদের শিক্ষাভাতার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও করেছে সরকার।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী সিটি হল স্কয়ারে (Rådhuspladsen) জমায়েত হয়। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানসবর্গ প্রাসাদের সামনের চত্বরে (Christiansborg Slotsplads) যায়।
এ ছাড়া একই দিনে ডেনমার্কের ৪০টি স্কুলের প্রায় ৩০,০০০ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদে অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে।
নতুন গ্র্যাজুয়েটদের বেকার ভাতা নিয়েও নতুন প্রস্তাব :
নতুন রাষ্ট্রীয় বাজেটে সরকার আরও একটি প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা সম্প্রতি পড়াশোনা বা ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, তাদের গ্র্যাজুয়েট বেকার ভাতা (Dimittenddagpenge) পাওয়ার যোগ্য হতে হলে পড়াশোনার শেষ ২৪ মাসের মধ্যে অন্তত ১৮ মাস কাজ করতে হবে।
বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করার পর A-kasse-এর সদস্য হিসেবে অন্তত ১২ মাস আগে থেকে নিবন্ধিত থাকলে তিনি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে Dimittenddagpenge পাওয়ার যোগ্য হন। এই ভাতার পরিমাণ সাধারণ বেকার ভাতার তুলনায় কিছুটা কম।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে, যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনার শেষ দুই বছরে নিয়মিত কোনো শিক্ষামূলক চাকরি (Studiejob) করেননি অথবা উল্লেখযোগ্য সময় কাজ করেননি, তারা ডিগ্রি শেষ করার পরপরই এই বিশেষ বেকার ভাতা পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান করার জন্য সরকার এসব নতুন প্রস্তাব করেছে।
শিক্ষার্থীদের সংগঠনের প্রতিবাদ :
ডেনিশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সভাপতি অস্কার টোন্সবার্গ হফম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজনীয় অর্থ অন্য বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যখন সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার জন্য চেষ্টা করা তরুণদের পকেট থেকে টাকা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এটিকে শিক্ষার প্রতি বিরূপ মনোভাব ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে দেখা কঠিন।
হফম্যান আরও জানিয়েছেন, সরকারের এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের সংগঠন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।





