এরশাদুল বারী, কোপেনহেগেন থেকে : ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসের শুরুতে সকালে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ করে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করেন ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. কে. এম. শহীদুল করিম। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকালে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার পার্টিতে ডেনমার্কে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতি, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করেন।
পরে আলোচনা সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে এর অবদান, মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও প্রসারের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।
ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ.কে.এম. শহীদুল করিম বলেন, ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের অবদান তুলে ধরেন। তিনি মাতৃভাষা বাংলার চর্চা ও প্রসার, বিশ্বের অন্যান্য ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বহুভাষা শিক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দেন। এসময় তিনি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার, পরিচয়ের, কল্যাণ ও সমাজে অংশগ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেনমার্কের বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমাম ও খতিব শেখ ওয়াজিউল্লাহ।পের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ইফতার ও নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের মহান ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাতৃভাষার সংরক্ষণ, বহুভাষা শিক্ষার প্রসার ও যুব সমাজকে linguistic বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রেরণা সম্পর্কে গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।






